আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি কমিশনের দাবি

তিমির বনিক;মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, পূর্বপুরুষের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। 

রবিবার ৯ই আগষ্ট মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ​“আদিবাসী জীবন ও ঐগিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়।  বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এদিকে ​সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানের ফিতা কেটে র‍্যালির উদ্বোধন করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা অডিটোরিয়ামে ফিরে আসে। পরে বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনক দেববর্মার সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। ​সভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। ভূমি দখল, উচ্ছেদের চেষ্টা ও হয়রানি বন্ধ করে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।

​তারা সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের পাশাপাশি পূর্বপুরুষের ভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার সংরক্ষণের দাবি জানান। মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা চালু, শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলেন তারা।

 

​এ ছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার আদিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং ভাষা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। চা-বাগানে বসবাসরত স্বীকৃতির বাইরে থাকা জাতিগোষ্ঠীগুলোর যথাযথ স্বীকৃতি ও চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও উঠে আসে। এ সময় ​বক্তারা জাতিসংঘের ২০০৭ সালের আদিবাসীবিষয়ক ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এবং আইএলও কনভেনশন-১৬৯ অনুসমর্থন ও কনভেনশন-১০৭ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

​সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য নেরলা তেনসং, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সাবেক সভাপতি যুবরাজ দেববর্মা, নিরালা পুঞ্জির মান্ত্রী এলভিস পতাম, কথা সাহিত্যিক ও লেখক আকমল হোসেন নিপু, আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনক দেববর্মা, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মান্ত্রী ফিলা পতমী, বাংলাদেশ আদিবাসী লেখক পরিষদের সভাপতি সনাতন হামোম, শ্রী চুক গারো যুব সংগঠনের সভাপতি পার্থ হাজং, আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সাধারন সম্পাদক জনক দেববর্মা ও পাত্রখোলা চা-বাগানের সভাপতি স্বপন কুর্মী প্রমুখ।

 

​আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝে এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031