ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ড্রোন অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজনৈতিক সংকটের মুখে পদত্যাগ করেছেন Evika Siliņa। এর ফলে দেশটির কেন্দ্র-ডানপন্থী জোট সরকারের পতন ঘটেছে, যা আগামী অক্টোবরের নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন সিলিনা। এর একদিন আগে জোটসঙ্গী বামঘেঁষা দল The Progressives সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী Andris Sprūds-কে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। স্প্রুডস ছিলেন প্রগ্রেসিভস দলের সদস্য।
জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন সিলিনা। শুক্রবার নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে লাটভিয়ার প্রেসিডেন্ট Edgars Rinkēvičs-এর।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সিলিনা বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লাটভিয়ার জনগণের কল্যাণ ও দেশের নিরাপত্তা। ইউক্রেনে রাশিয়ার নৃশংস যুদ্ধ ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বদলে দিয়েছে।”
গত রোববার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্প্রুডসকে অপসারণ করা হয়। সরকার অভিযোগ করে, রাশিয়ার দিক থেকে লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা সন্দেহভাজন ইউক্রেনীয় ড্রোন মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সবশেষ ৭ মে একটি তেল সংরক্ষণাগারে দুটি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় সিলিনা বলেন, দেশের আকাশসীমা নিরাপদ রাখার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় প্রতিরক্ষা খাতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছে।
লাটভিয়ার সেনাপ্রধান জানান, রাশিয়া দিক থেকে আসা ড্রোনগুলো শনাক্ত করতে পারেনি সেনাবাহিনী। দ্রুত অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর চাপান প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে পূর্ব ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy হাঙ্গেরির সাম্প্রতিক অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে পোল্যান্ড যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে, স্লোভাকিয়া নিরাপত্তার কারণে ইউক্রেন সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে এবং মলদোভা জানিয়েছে, একটি রুশ ড্রোন তাদের আকাশসীমা অতিক্রম করেছে।











