মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র যুদ্ধাবস্থা

ইরানে ইসরায়েল–আমেরিকার ব্যাপক হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আজ (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মধ্যপ্রাচ্যে অভূতপূর্ব সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যখন ইরান–এর বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে এবং ইরানও পাল্টা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এই বিষয়টি ব্যাপকভাবে খবরের শিরোনামে এসেছে।

সকাল থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের মিলিত অপারেশন নাম দিয়ে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানসহ ইরানের শিক্ষা, শহরতলী ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সেখানে বিরতিহীন গুঁটিগুঁটি ধ্বংসবাদী অভিযান চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে এই হামলা একটি “ব্যাপক, যৌথ সামরিক অভিযান” হিসেবে সংঘটিত হচ্ছে এবং এতে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

জারি হওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, লক্ষ্যবস্তু এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার জন্য এ অভিযান শুরু করেছে। এই হামলা পরিচালিত হয়েছে মাসগুলোর পরিকল্পনার পর এবং তেহরানের ওপর প্রথম ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে। একই সময় ইসরাইলের নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, সবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে।

ঘটনার পর ইরানের পক্ষ কুরাশিয়া ও সামরিক নেতৃত্ব ঘোষণা দিয়েছে যে তারা “সঙ্কটময় পাল্টা প্রতিরোধ” প্রদর্শন করবে এবং পূর্ববর্তী হামলার জবাবে তাদের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো শুরু করেছে। ইরানি বাহিনী ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও শুরু করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সূত্রে জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বলা হয়েছে, তারা আগের আলোচনার সময় শান্তি চেয়েছিল, কিন্তু হামলার জবাবে এখন কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রস্তুত।

এ হামলায় শুধু ইরানের কেন্দ্র বরাবরই ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা নয়, তেহরানসহ অন্যান্য শহরেও বিস্ফোরণ এবং ভৌগলিক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ইরান এবং পাশ্ববর্তী অঞ্চলে আমেরিকান ও ইসরায়েলি কর্মীরা নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, বিশেষ করে কাতার ও অন্যান্য দেশে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদ অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই ইরানের নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাপক প্রভাবিত হয়েছে এবং ইরানের অনেক স্থানে ইন্টারনেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ এবং সংবাদ যোগাযোগ অনেক ক্ষেত্রে ব্যাহত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য শক্তিশালী উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং পর্যবেক্ষকরা এখনো দেখছেন যে এই সংঘাত কোন দিকে যাব। ঘটনার গুরুত্ব ও প্রভাবের কারণেই এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031