গতরাতে নামাজের পরপরই ইস্ট সাসেক্সে একটি মসজিদের সামনে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঘটনাটিকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।
দরজার ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদ ভবন ও বাইরে পার্ক করা একটি গাড়ির ওপর দাহ্য তরল ঢালছে। তারা এরপর গাড়ির দিকে কিছু নিক্ষেপ করলে সেটিতে আগুন ধরে যায় রাত প্রায় ১০টার দিকে ঘটে এই ঘটনাটি। আগুনে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং মসজিদের প্রধান প্রবেশদ্বারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মসজিদের একজন স্বেচ্ছাসেবক জানান, এশার নামাজ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাটি ঘটে। তখনো ভেতরে দু’জন মানুষ ছিলেন।
তিনি বলেন, “তারা কিছু নিক্ষেপ করতেই গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়। আগুন ছড়িয়ে মসজিদের দরজায় পৌঁছে যায়। আশপাশের লোকজন তৎক্ষণাৎ ফায়ার ব্রিগেডে ফোন করে। ভেতরে থাকা দু’জন যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসে। মসজিদের চেয়ারম্যান, যিনি ষাটের কোঠায় একজন বৃদ্ধ, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।”
স্বেচ্ছাসেবক আরও বলেন, “দু’জন মানুষ অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন, কারণ আগুন মুহূর্তেই বিশাল আগুনের গোলায় পরিণত হয়েছিল। এটি নিঃসন্দেহে একটি পরিকল্পিত হামলা।”
পিচহ্যাভেন মসজিদ ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মসজিদটি বন্ধ থাকবে।
পিচহ্যাভেনের লেবার পার্টির এমপি ক্রিস ওয়ার্ড ঘটনাটিতে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ঘটনায় কেউ আহত হননি, সেটি নিছকই সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমাদের শান্তিপ্রিয় ও সহনশীল সমাজে এমন সহিংসতা ও ঘৃণার কোনো স্থান নেই। আমরা একসঙ্গে দাঁড়াবো এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করব।”
সাসেক্স পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, “আগুনে মসজিদের সামনে ও একটি গাড়িতে ক্ষতি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে কেউ আহত হননি। ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।”
ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট ক্যারি বোহানা বলেন, “আমরা জানি এই ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এর প্রভাব পড়বে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুরো কাউন্টিতে অন্যান্য উপাসনালয়ে নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে। সাসেক্স পুলিশ ঘৃণাজনিত অপরাধের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাউন্টির কোথাও ঘৃণার স্থান নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি দ্রুতগতির তদন্ত। যাদের কাছে কোনো তথ্য, সিসিটিভি, ড্যাশক্যাম, দরজার ক্যামেরা বা মোবাইলের ফুটেজ আছে, তারা যেন অবিলম্বে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।”











