ইংল্যান্ডের এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সি সমুদ্রসৈকতে গত ২২ জুলাই ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সাত বছর বয়সী মুসা আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। লন্ডনের রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে এক সপ্তাহ নিবিড় পরিচর্যায় থাকার পর তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় একই পরিবারের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে তিনে পৌঁছেছে।
দুর্ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়েছিল মুসা। হঠাৎ জোয়ারের প্রবল স্রোতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য পানিতে আটকা পড়েন। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলাকালে মুসার ফুফু শেলিনা রহমান (৪১) এবং ১৫ বছর বয়সী চাচাতো বোন সামিহা রহমান প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় মুসাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দ্রুত রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এসেক্স পুলিশের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মুসার পরিবার জানিয়েছে, “অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা জানাচ্ছি যে আমাদের প্রিয় মুসা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে।” পরিবারের পক্ষ থেকে রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং সংশ্লিষ্ট সব স্বাস্থ্যকর্মীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে যাঁরা প্রার্থনা, সমর্থন ও সহানুভূতি জানিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করা হয়েছে।
মুসার বাবা শাহিন আহমেদ বলেন, এই দুর্ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা পরিবারের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাটি ছিল একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম এবং স্পষ্ট সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করা জরুরি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, উদ্ধারকর্মী, কোস্টগার্ড, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, এসেক্স পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুরো ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে।











