গত দেড় দশকে খুন, ধর্ষণ ও দুর্নীতির অভিযোগে বারবার আলোচনায় এসেছে ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসভিত্তিক সহিংসতা থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি-বিভিন্ন ঘটনায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নাম উঠে এসেছে শিরোনামে।
এবার কেয়ার ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রলীগ নেতা এনামুল ইসলাম পলাশ। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। তিনি সুনামগঞ্জের ছাতকের স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেয়ার ভিসা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেখিয়ে তিনি শত শত মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে পলাতক রয়েছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, তিন মাসের মধ্যে কেয়ার ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকারও বেশি আদায় করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের আশিক আলী জানান,
“আমি জায়গা-জমি বিক্রি করে স্ত্রীসহ লন্ডনে যাওয়ার আশায় পলাশকে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এখন তার কোনো খোঁজ নেই। না খেয়ে কোনোরকম বেঁচে আছি।”
প্যারিসপ্রবাসী মাহমুদ উদ্দিন বলেন,
“কেয়ার ভিসার আশায় এককালীন প্রায় ৯ হাজার পাউন্ড দিয়েছিলাম। দুই বছর ধরে ‘দিচ্ছি, দিবো’ বলে সময় পার করেছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ফ্রান্সে চলে আসি। এখন শুধু চাই, আমার টাকাটা ফেরত পেতে।”
এমন অভিযোগ নিয়ে আরও আট থেকে দশজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সবার অভিযোগ প্রায় একই-তারা কেয়ার ভিসার আশ্বাসে বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছেন, কিন্তু ভিসা বা টাকা কোনোটাই ফেরত পাননি।
ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দেশে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করায় টাকা আদায় ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন তারা।











