গাজা সিটি, শুক্রবার: গাজায় হামাসের কার্যত শীর্ষ নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। গত শরতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাসের এত উচ্চপর্যায়ের নেতাকে হত্যার এটি হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, আল-হাদ্দাদ গত বছর গাজায় হামাসের সামরিক শাখার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ইসরায়েলি অভিযানে নিহত হন মুহাম্মদ সিনওয়ার, যিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ভাই।
শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল-হাদ্দাদকে ওই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি চুক্তি অনুযায়ী হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গাজা শহরের একটি ভবনে আল-হাদ্দাদ অবস্থান করছিলেন বলে সন্দেহ করে বিমান হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে আশপাশের এলাকায়ও হামলা চালানো হয়, যাতে লক্ষ্যবস্তু পালিয়ে যেতে না পারে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ওই হামলায় তিনি ভবনের ভেতরেই নিহত হয়ে থাকতে পারেন, যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হামাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হামলায় হতাহতদের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। গাজার আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানিয়েছেন, অন্তত সাতজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসল বলেছেন, নিহতের সংখ্যা পাঁচজন।
এই হামলার ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সুত্র: দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইম











