ঘরে বসেই কিডনি পরীক্ষা করার সহজ উপায়

কিডনি মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা প্রতিনিয়ত রক্ত পরিশোধন করে বর্জ্য অপসারণ, শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং খনিজের সামঞ্জস্য রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। অথচ বেশিরভাগ মানুষই কিডনিতে বড় কোনো সমস্যা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত এর যত্নে তেমন গুরুত্ব দেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে বসেই খুব সহজ একটি পদ্ধতিতে কিডনির প্রাথমিক কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব—আর তা হলো প্রস্রাবের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করা। নিয়মিত প্রস্রাবের পরিমাণ ট্র্যাক করলে কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তার একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

কিডনি সারাক্ষণ রক্ত ছেঁকে অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। তাই প্রস্রাবের পরিমাণ কিডনির কার্যক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে বা নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতি বাড়তি সতর্কতার সুযোগ তৈরি করে।

এই পরীক্ষা করতে কোনো জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। একটি পরিষ্কার পরিমাপক পাত্র থাকলেই যথেষ্ট। দিনের এমন একটি ১০ ঘণ্টার সময় বেছে নিতে হবে, যখন নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রস্রাব সংগ্রহ করা সম্ভব। এই সময়ের মধ্যে যতবার প্রস্রাব হবে, তা একটি পরিমাপক পাত্রে সংগ্রহ করে মোট পরিমাণ হিসাব করতে হবে। এরপর সেই পরিমাণ নিজের শরীরের ওজন অনুযায়ী স্বাভাবিক সীমার মধ্যে পড়ে কি না, তা যাচাই করা যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, একজন সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৫ থেকে ১ মিলিলিটার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক। অর্থাৎ, কারও ওজন যদি ৬০ কেজি হয়, তবে তার প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিলিটার এবং ১০ ঘণ্টায় মোট ৩০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার প্রস্রাব হওয়া প্রত্যাশিত। এই সীমার মধ্যে থাকলে সাধারণত কিডনির কার্যক্রম স্বাভাবিক ধরা হয়।

তবে প্রস্রাবের পরিমাণ যদি নিয়মিতভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়, তা কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস, শরীরে পানিশূন্যতা বা কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। এর পাশাপাশি পা, গোড়ালি বা মুখে ফোলা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, প্রস্রাবে ফেনা বা গাঢ় রঙ, বমি বমি ভাব কিংবা মনোযোগে ঘাটতির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এই পদ্ধতি কেবল কিডনির স্বাস্থ্যের একটি প্রাথমিক ধারণা দেয়। এটি কোনোভাবেই ল্যাবরেটরি পরীক্ষা যেমন সিরাম ক্রিয়েটিনিন বা eGFR-এর বিকল্প নয়। প্রস্রাবের পরিমাণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031