ঈদের টানা ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার যাত্রীরা। রাজধানীর প্রবেশমুখ গাবতলী বাস টার্মিনাল ও নিকটবর্তী টেকনিক্যাল এলাকায় শুক্রবার দুপুরে ছিল ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়। একের পর এক দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে ঢুকতে থাকায় বেড়েছে যানজট ও গাড়ির চাপ।
ফিরতি যাত্রায়ও স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। কেউ বলেছেন, ঢাকায় পৌঁছানোর পর বাস থেকে নেমেও সমস্যার শেষ নেই—সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরবাইকে চড়তে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে।
গাবতলী ঘুরে দেখা গেছে, টার্মিনালের বিপরীত পাশে বিভিন্ন রুটের বাসগুলো যাত্রী নামাতে দাঁড়াচ্ছে। অনেক গাড়ি আবার ভিড় এড়াতে টেকনিক্যাল পয়েন্টে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছে। বাস থেকে নামার পর যাত্রীরা দ্রুত নিজেদের গন্তব্যে ফেরার চেষ্টা করছেন—কেউ দরকষাকষি করছেন সিএনজি চালকদের সঙ্গে, কেউ মোটরবাইকে চেপে বসছেন। চারদিকে দূরপাল্লার বাসের চাপ, আর সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে উল্লেখযোগ্য যানজট।
ফরিদপুরের মধুখালী থেকে পরিবার নিয়ে ফিরেছেন সিরাজুল মমিন শামীম। তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাসের টিকিট না পেয়ে লোকাল বাসে ঢাকায় এসেছেন। তেমন ভোগান্তি না হলেও নদী পার হয়ে ঢাকায় ওঠার পর বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে—যেখানে ১৫০ টাকা ভাড়া, সেখানেই নেওয়া হয়েছে ২০০ টাকা।
ঠাকুরগাঁও থেকে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রান্ত রায় জানান, পথে প্রচুর ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সেতু এলাকায় ছিল দীর্ঘ যানজট। বাড়তি ভাড়া নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাড়িতে যাওয়ার সময় সাধারণ মানের স্লিপার বাসে ১২০০ টাকা ভাড়া দিয়েছিলেন, আর আজ একটু ভালো মানের গাড়িতে দিতে হয়েছে ২০০০ টাকা। ঢাকায় নেমেও ভাড়া চাপে পড়তে হয়েছে—গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুর যেতে চাওয়া সিএনজি ৪০০ টাকা দাবি করেছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী মতিনও বলেন, সাধারণ সময়ের তুলনায় আজ বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে, অন্তত ১৫০ টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে গাড়ির স্টাফরা।
ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতি মানুষের ঢল বাড়তে থাকায় পরিবহন ভাড়া ও যানজট—দুই ভোগান্তিই যেন ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।











