বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, “২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়গুলোর একটি। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। ওই দিন দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এর অব্যবহিত পর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষকে অসীম সাহস জোগায়। এর মাধ্যমেই শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, যা দীর্ঘ নয় মাস পর লাখো প্রাণের বিনিময়ে আমাদের গৌরবময় বিজয় এনে দেয়।”
ভয়াল সেই রাতের স্মৃতিচারণ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, তৎকালীন ইপিআর সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও অগণিত নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গণহত্যা দিবসে তিনি সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের অসামান্য অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নির্মম বর্বরতা সম্পর্কে যেমন জানতে হবে, তেমনি জাতি হিসেবে আমাদের বীরত্ব ও গৌরবগাঁথাও সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বাণীতে প্রেসিডেন্ট দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর পর জনগণের বহুকাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনরায়ের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।











