যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যত ভেঙে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা এখন আর কার্যকর নয়। তিনি বলেন, “আমার কাছে এটি শেষ। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা করতে চাই না।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছু সময় পরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সেই সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরান দায়ী। এর জবাব হিসেবেই নতুন এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হামলায় দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং নৌ-অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এই নতুন সংঘাতের ফলে গত জুনে পাকিস্তারের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওই সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালানোর কথা ছিল। তবে কাতারে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।











