কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে নাসা গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং কাজে ফিরতে না পারার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পদুয়ার বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা আন্দোলন শুরু করেন, এতে দুইপাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত বছরের এপ্রিল থেকে নাসা স্পিনিং লিমিটেড, নাসা স্পিনারসসহ গ্রুপের কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হলেও বহু শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন ছাড়াই কর্মস্থল ছেড়ে দিতে হয়। তারা জানান, কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে সময় নিলেও বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেয়নি। সাম্প্রতিক একটি নোটিশেও বকেয়া পরিশোধ বা সময়সীমা নিয়ে কোনো স্পষ্টতা না থাকায় শ্রমিকদের ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়।
অবরোধে থাকা শ্রমিকদের অনেকে জানান, তারা হয় কাজে ফিরে যেতে চান, না হয় সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ ছাড়া ঘরে ফিরবেন না। এক নারী শ্রমিক তানজিলা আকতার বলেন, বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। আরেক শ্রমিক জুয়েল রানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘরে চুলা জ্বলছে না, ঘরভাড়াও দিতে পারছেন না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও কারখানার প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের আন্দোলন শান্ত করতে সব পক্ষ চেষ্টা করছে। অন্যদিকে নাসা গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মেজর আব্দুল হাফিজ শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোম্পানি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তবে সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে।
ইপিজেডের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মাহবুব জানান, আলোচনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আদালতের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বিক্রি করে অবশিষ্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও তিনি শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছেন।











