চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহর ওপর ব্লেড ও ক্ষুর দিয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তার চোখের উপরের অংশসহ শরীরের একাধিক স্থানে কাটা ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার সঙ্গে থাকা ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমানও একই হামলায় আহত হন।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা মোটরসাইকেলে তেল নিতে হাটহাজারী বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ফুয়েল স্টেশনে গেলে ৭–৮ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত বাইক চালককে আটকে সমঝোতা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চাকসু সূত্র জানায়, হামলার পর খবর পেয়ে চাকসুর সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ হোসাইন এবং আইন সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, মাসুম বিল্লাহর চোখের ওপর ধারালো অস্ত্রের গভীর কাটা দাগ রয়েছে এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর মাসুম বিল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ৪ মার্চ ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে আহত করার ঘটনায় তিনি সমঝোতা করেন। সেই ঘটনার জের ধরেই এ হামলা চালানো হয়েছে এবং ব্লেড ও ক্ষুর দিয়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বহিরাগত বাইক চালক আরিফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মোট আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিতে একজন কর্মকর্তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বহিরাগত আরিফুল ইসলাম বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজকে আহত করলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সমঝোতার দায়িত্ব নেন মাসুম বিল্লাহ। সেই ঘটনার পরই উত্তেজনা তৈরি হয়, যার ধারাবাহিকতায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।











