পরিচালক সৈয়দ মহিউদ্দিন হোসাইন। একই উপজেলার আজগরাবাদ চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেবজাদি নাসরিন খান। মুরইছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওয়াব আলী আনোয়ার খান। রাজনগর উপজেলার শফিনগর চা বাগানের প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনুর আহমেদ।সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আহমেদ চৌধুরী। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিডি মুখার্জি। ড. শামসুল হক ভুঁইয়ার মালিকানাধীন এপোলো মাল্টিপারপাস এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর চা বাগানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে রয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ডালুছেড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে এন দেব চৌধুরী।মো. আলী বক্স অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটের পাঠানটুলার আলীবাহার চা বাগানের ব্যবস্থাপক এসএম ছিদ্দিক আলী। লোভাছড়া টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেমস লিও ফারগুসন।সিলেটের ডালিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোহর আলী গং। জাফলং টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিম। জৈন্তাপুর উপজেলার মেঘালয় চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন।
চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই একের পর এক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিলেটের চা বাগানগুলো। প্রচণ্ড দাবদাহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উৎপাদন। এর মধ্যে আবার ক্রমাগত লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে চা প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম। প্রক্রিয়াকরণ ব্যাহত হওয়ায় চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত চায়ের যথাযথ মান ধরে রাখতে না পারলে তা রফতানির বাজারে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। কোনো কোনো বাগানের কারখানায় জেনারেটর দিয়ে প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চালু রাখা হলেও তাতে ব্যয় হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা শিল্প এখন এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে লোডশেডিং চা শিল্পে বিপর্যয়ের ঘণ্টা বাজাচ্ছে। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে জেনারেটর চালু করতে সময় লাগছে। আবার বিদ্যুৎ এলে মেশিন নতুনভাবে চালু হতেও সময় লাগছে। এতে উৎপাদন প্রক্রিয়া ঢিমেতালে হওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াকরণের ধারাবাহিকতায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। এতে একদিকে সময়, অন্যদিকে চায়ের গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবদান ৩ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের চা শিল্প বিশ্ববাজারে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। চলমান আন্দোলন চায়ের বাজারকে ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিটিএবি) কর্মকর্তারা বলেন, চা বাগানগুলো এখন খুব ভালো অবস্থায় নেই। বাগান মালিকদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত সাত-আট বছরে নিলামে চায়ের গড় মূল্য যা ছিল তাই আছে। কিন্তু খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মজুরি, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাসহ শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ব্যয় ন্যূনতম ৪০০ টাকা।দেশে চায়ের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে নয় কোটি কেজি।চা শ্রমিকদের মজুরি প্রেসঙ্গে বাংলাদেশ চা সংসদের সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, দেশের চা বাগানগুলোয় শ্রমিকদের যে মজুরি দেয়া হয় সেটি দৃশ্যত কম দেখালেও ক্যাশ অ্যান্ড কাউন্ডের হিসাবে ৪০০ টাকার মতো। তাছাড়া শ্রমিকরা ওভারটাইমসহ নানা সুবিধা পেয়ে থাকে। নির্ধারিত সীমার বেশি চা পাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ৪ টাকা বা কোনো কোনো বাগানে তারও বেশি অর্থ পেয়ে থাকে। বাগান মালিকরা আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখেই লোকসান হলেও মজুরি প্রদান অব্যাহত রাখে। প্রতি বছর নিয়মিত বিরতিতে মজুরি বাড়ানোও হয়। তবে সাম্প্রতিক যে আন্দোলন সেটি অপ্রত্যাশিত।তিনি আরো বলেন, চা বাগানগুলোর পরিচালনা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়েছে উদ্যোক্তাদের কাছে। আগের পুরনো মালিকরা বাধ্য হয়ে অনেক বাগান বিক্রি করে দিচ্ছেন। দেশের প্রতিষ্ঠিত করপোরেট গ্রুপের মালিকানায় থাকা অনেক বাগানও লোকসানের তালিকায় রয়েছে। উৎপাদন খরচ অনুুযায়ী চা বিক্রি থেকে আয় কম হওয়ায় সংকট ক্রমেই বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ছাড়াও চাকে কেন্দ্র করে নানামুখী উৎপাদনশীল খাত, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণী ও পেশাজীবী শ্রেণী গড়ে উঠেছে, যা দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। বাগান মালিকরা চাইলেও কোনো চা বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন না নিলাম পদ্ধতির কারণে। ফলে এসব বিষয় নিয়ে সার্বিকভাবে ভেবে দেশের চা শিল্পকে রক্ষায় সরকারসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে:।











