রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকা অবস্থায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ এবং ৭ জন শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৩ জন মেয়ে ও ৪ জন ছেলে।
শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে ২৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সোহাদ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে পন্টুন থেকে নিচে পড়ে সরাসরি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। প্রায় সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টায় গভীর রাতে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে টেনে তোলে।
উদ্ধার হওয়া সব মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। শনাক্তকরণে স্বজনদের সহযোগিতা চেয়ে প্রশাসন দ্রুত যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রচার বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। শনাক্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।











