পশ্চিম তীরে দ্রুত নতুন বসতি সম্প্রসারণে ইসরায়েলের বড় উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ আরও জোরদার করেছে ইসরায়েল সরকার। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্রুতগতিতে বিভিন্ন স্থানে বসতি গড়ে তুলে সেগুলোকে স্থায়ী সম্প্রদায়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে বসতি স্থাপনকারীদের আবাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার চাইলে এসব বসতি সহজে অপসারণ করতে না পারে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে একাধিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে কয়েক ডজন নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি মূলত বৃহৎ পরিসরে ভূমি দখলের একটি প্রক্রিয়া। পাশাপাশি, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অতীতে গড়ে ওঠা এবং ইসরায়েলি আইন অনুযায়ীও অবৈধ বিবেচিত বেশ কয়েকটি আউটপোস্টকে সরকার পরে বৈধতা দিয়েছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী এবং বসতি সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান সমর্থক বেজালেল স্মোত্রিচ সম্প্রতি পার্লামেন্টে বলেন, “আমাদের মেয়াদের শুরু থেকে আমরা জুডিয়া ও সামারিয়ায় একটি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছি।” তিনি পশ্চিম তীরকে এর বাইবেলভিত্তিক নাম ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্মোত্রিচ আরও বলেন, “আমরা ১০০টির বেশি নতুন বসতি, কয়েক দশ হাজার আবাসন ইউনিট এবং অন্তত ১৬০টি নতুন কৃষিভিত্তিক বসতি অনুমোদন করেছি।” এসব ছোট কৃষি খামারভিত্তিক বসতি পশুপালন ও কৃষিকাজের মাধ্যমে বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সহায়তা করে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি পাঁচ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন।

সরকার কয়েক মাস আগে নতুন বসতির জন্য নির্ধারিত প্রায় ৬০টি স্থানের অনুমোদন দিলেও সেগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনি। সাধারণত এই প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগে। তবে রোববারের নির্ধারিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অন্যদিকে থাকায় উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের সম্পদের ওপর হামলা জোরদার করেছে। ভীতি সৃষ্টির এ ধারাবাহিকতায় কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরু হলে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলি জনমতের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। এ অবস্থায় স্মোত্রিচ তাঁর বসতি-সমর্থক রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

 

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই থেকে তিন বছরে নতুন বসতিগুলোর জন্য মোবাইল হোম, কমিউনিটি সেন্টার, সামাজিক সংগঠন গঠনে সহায়তাকারী পেশাজীবী এবং অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে অর্থ ব্যয় করা হবে।

গত মে মাসের শুরুতে নেতানিয়াহু সরকার নতুন অনুমোদিত বসতিগুলোকে সংযুক্ত করতে সড়ক নির্মাণের জন্য এক বিলিয়ন শেকেলের বেশি (প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দেয়। সরকারের ভাষ্য, এসব সড়ক বসতিগুলোর উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

সুত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস 

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031