ফিলিস্তিনি ও ৭ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

donald trump

ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারী ও আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো—বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস ও সিরিয়া।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্ক্রিনিং, যাচাই-বাছাই ও তথ্য আদান–প্রদানের ক্ষেত্রে এসব দেশের ‘স্থায়ী ও গুরুতর ঘাটতি’ যুক্তরাষ্ট্র ও এর নাগরিকদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ওই তালিকায় ছিল আফগানিস্তান, মিয়ানমার, বুরুন্ডি, শাদ, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেন।

পরে গত ৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিষেধাজ্ঞার তালিকা বাড়িয়ে অন্তত ৩২টি দেশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সে সময় অতিরিক্ত ১৩টি দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে বন্দুক হামলায় ১৫ জন ইহুদি নিহত হওয়ার ঘটনার পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন ধারণা অপ্রত্যাশিত ছিল না বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।

তবে সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। কারণ অল্প কিছুদিন আগেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারা হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাবেক আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট নেতা আহমেদ শারার বিরুদ্ধে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ওই সফরের আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও তাদের এক দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এ হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর জেরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে সিরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা থাকলেও দেশটিতে পাসপোর্ট ও নাগরিক নথিপত্র ইস্যুর জন্য দক্ষ ও কার্যকর কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি যথাযথ স্ক্রিনিং ও যাচাই-বাছাই ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়—যা এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031