ফুটবলের নিষ্ঠুর আততায়ীর শিকার সেনেগাল

স্পোর্টস রিপোর্টার

ম্যাচটা শেষ হতে তখনো অল্প কিছু সময় বাকি। কিন্তু সর্বনাশের ষোলো কলা এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। কয়েক সেকেন্ড পর কী ঘটতে যাচ্ছে কারও বুঝতে বাকি নেই। সেনেগালের দর্শকদের হতবিহ্বল অভিব্যক্তি বলে দিচ্ছিল, বিশ্বকাপের রঙিন মঞ্চে আরেকটি স্বপ্ন ভঙ্গ হলো বলে!

একটু পর হয়েছেও তাই। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে এগিয়ে থাকা সেনেগাল অতিরিক্ত সময় শেষে ৩–২ গোলে হেরে গেল। শেষ বাঁশি বাজার পর স্টেডিয়ামের আনন্দিত ও বেদনাহত মানুষেরা মুহূর্তেই দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেল।

 

একটু আগে বিদায়ের ক্ষণ গুনতে থাকা বেলজিয়াম যেখানে উৎসবের তীব্র উল্লাসে ফেটে পড়েছে, সেখানে সেনেগাল শিবিরে তখন কান্নার রোল। হতাশায় ভেঙে পড়া এই মানুষগুলোর মুখ পৃথিবীর যেকোনো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে বাধ্য।

বিশেষ করে লামিন কামারার কান্না যেন পরাজয়ের বেদনায় আরও গভীর এক ক্ষত এঁকে দিচ্ছিল। শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিটা তাঁর ফাউলের কারণেই পেয়েছিল বেলজিয়াম। এই দায়টাই ম্যাচ শেষ হতেই যেন চেপে বসেছিল তাঁর কাঁধে। কান্না তাই থামছিল না, কবে যে থামবে কে জানে!

 

নিজেদের আবেগ সামলে সতীর্থরা সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিলেন কামারাকে। এগিয়ে আসলেন দলের স্টাফরাও। নাহ, কেউ পারছেন না কামারাকে থামাতে। একটু পর এগিয়ে এলেন এই ম্যাচে বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক ইউরি টিলেমান্সও। মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে তিনিও চেষ্টা করলেন কামারাকে শান্ত করতে। নাহ, কিছুতেই যেন কিছু হওয়ার নয়। কে জানে, এই কান্নার রেশ ভুলতে কামারার হয়তো গোটা জীবনটাই লেগে যায় কি না!

 

কামারার কান্না দেখতে দেখতে একটা কথাই বারবার মনে হচ্ছিল, এমনও হয় নাকি! এভাবেও কি হারতে হয়! নিয়তি কেন যে এত নির্মম! এই হার শুধু কামারা নন, সাদিও মানে–ইসমাইলা সারদেরও অনেক দিন তাড়া করবে। কারণ হবে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠা অনেক রাতের। এই তো কদিন আগে জেতার পরও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সেনেগালের আফকন শিরোপা। আর এবার বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে এমন বিদায়। ভাগ্যের সঙ্গে চাইলে অভিমান করতেই পারেন সেনেগালের খেলোয়াড়েরা।

সেনেগালের এই হারের পেছনে অনেক কারণ বের করা যায়। রেফারির বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, বেলজিয়ামের হার না–মানা মানসিকতা কিংবা নিজেদের রক্ষণে গন্ডগোল পাকানো। তবে কারণ যা–ই হোক, সত্যি কথা হচ্ছে, কামারার কান্না সিয়াটলের বাতাসকে আরও অনেক দিন ভারী করে রাখবে। মারকানা কিংবা বেলো হরিজেন্তেতে কান পাতলে যেমন ব্রাজিলিয়ানদের কান্না শোনা যায়, তেমনি অনেক দিন পর সিয়াটল স্টেডিয়ামের ঘাসে কান পাতলে শোনা যাবে লামিনে কামারার ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031