আওয়ামী লীগের মিছিলে স্লোগান দেওয়া, দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং গত জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই চিত্র রাতারাতি বদলে গেছে। বনানী থানার সাবেক আওয়ামী লীগ কর্মী ও স্থানীয় যুবলীগ নেত্রীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ফুল মিয়া এখন বনে গেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কর্মী।
অভিযোগ উঠেছে, বনানী থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক কবির মিয়া অর্থের বিনিময়ে ও ব্যক্তিগত স্বার্থে বিতর্কিত এই আওয়ামী কর্মী ফুল মিয়াকে পুনর্বাসিত করেছেন। শুধু পদ বা পরিচয় বদলই নয়, বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের আশ্রয় নিয়ে এলাকায় মাদককারবারসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে।
জুলাই আন্দোলনে সহিংসতা থেকে নির্বাচনী প্রচার স্থানীয় সূত্র ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বনানী থানা যুবলীগের নেত্রী তাসলিমা বেগমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং ঢাকা-১৭ আসনের তৎকালীন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাতের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সবসময় সামনের সারিতে দেখা যেত তাঁকে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর বনানী এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যেসব ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী হামলায় অংশ নেয়, তাদের মধ্যেও ফুল মিয়া অন্যতম ছিলেন।
তবে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফুল মিয়া আত্মগোপনে না গিয়ে বেছে নেন কৌশলী পথ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক কবির মিয়া নিজ স্বার্থে ফুল মিয়াকে যুবদলের রাজনীতিতে এনে আশ্রয় দেন। বর্তমানে কবির মিয়ার ছায়াতলে থেকেই ফুল মিয়া নিজেকে যুবদল নেতা দাবি করছেন এবং দলের নাম ব্যবহার করে বনানী এলাকায় অবৈধ মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বনানী এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আগে যে ফুল মিয়া নৌকার ব্যাজ পরে ঘুরত, সে এখন যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চলাফেরা করে। দলের পরিবর্তনের সাথে সাথে লোকটা বদলে গেল, কিন্তু তার অপকর্ম আগের মতোই রয়ে গেছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে ফুল মিয়া বলেন, “আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের পদে ছিলাম না। এলাকার সাধারণ মানুষ হিসেবে বিভিন্ন সময় অনেকের সাথে থাকতে হয়েছে। তবে কোনো ছাত্র আন্দোলনের ওপর আমি আক্রমণ করিনি। মাদক ব্যবসার যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও শত্রুতামূলক।”
১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক কবির মিয়া জানান, “ফুল মিয়াকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি, তবে তাকে যুবদলে কোনো পদ দেওয়া হয়নি বা পুনর্বাসিত করা হয়নি। যুবদলে কোনো অপরাধী বা আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের জায়গা নেই। সে যদি যুবদলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অবৈধ কাজ বা মাদক ব্যবসা করে থাকে, তবে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিক, আমরা তাকে কোনো সমর্থন দেব না।”
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের দায়িত্বশীল এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী সরকারের কোনো সহযোগী কিংবা ছাত্রদের ওপর হামলাকারী কোনো অপরাধীকে যুবদলে ঠাঁই দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কোনো ওয়ার্ড কমিটির নেতা যদি ব্যক্তিস্বার্থে আওয়ামী লীগের কর্মী কিংবা কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”











