রাজধানীর বনানীর আবাসিক হোটেলে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা পরিচালনাকালে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ৪ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম মূল হোতা ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম শুভ এবং তার সহযোগী শিলা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বনানীর ‘হোটেল পালে’ অবস্থিত একটি স্পা সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যক্রম ও মাদকের লেনদেন চলে আসছিল—এমন গোপন ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি ওই অভিযান পরিচালনা করে বনানী থানা পুলিশ। সেখান থেকেই তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের পর অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ভিডিও চিত্র ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী হওয়ায় গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম শুভকে পদ থেকে বহিষ্কার করেছে দল। গত ১৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, “আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল যে আবাসিক হোটেলের স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। আমরা সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪ জন নারী ও ৮ জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দলে কোনো অপরাধী বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির স্থান নেই। অপরাধ করলে তাকে তার ব্যক্তিগত দায়ভার বহন করতে হবে। সাজ্জাদুল ইসলাম শুভর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
অভিযানের পর বনানী এলাকার সাধারণ বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা বনানী অঞ্চলের অন্যান্য আবাসিক হোটেল ও স্পা সেন্টারগুলোতেও অনুরূপ অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।











