বিএনপির আপত্তিতে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে ইসি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নির্বাচনি কাজে সহায়তা নেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সদস্যদের নিয়োগ দিতে চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু বিএনপির আপত্তিতে তাদের নির্বাচনের সামগ্রিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে শুধু পোস্টাল ব্যালট ভোট গণনা কেন্দ্র এবং ইসি সচিবালয়ের শৃঙ্খলার তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

 

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ইসির একজন উপসচিব।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট (ওসিভি ও আইসিপিভি) গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনসিসি কাজ করবে। এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে ৫টি সেকশনে দায়িত্ব পালন করবে।

 

এক্ষেত্রে বিএনসিসির ক্যাডেটদের ছয়টি নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। এগুলো হলো—রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বিএনসিসি মোতায়েন করবে; নির্বাচনি দায়িত্ব প্রদানের আগে বিএনসিসি ক্যাডেটদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক সংশিষ্টতা যাচাই-বাছাই করে মোতায়েন করতে হবে; সর্বোচ্চ তিনটি নির্বাচনি এলাকার জন্য একটি করে সেকশন (একজন কর করপোরাল ও ১০ জন ক্যাডেট) হারে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার জন্য ১২৩ সেকশন বিএনসিসি মোতায়েন করতে হবে (পরিশিষ্ট ক)। এছাড়া ভোটগ্রহণের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ও পরিস্থিতি প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং পরিবেশন কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিএনসিসির পাঁচটি সেকশন মোতায়েন করতে হবে।

 

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মোতায়েনকৃত ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে চূড়ান্ত বেসামরিক ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে; মোতায়েনকৃত ক্যাডেটরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না; এবং ক্যাডেটদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে নিয়োগ প্রদানের আগে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে।

 

এক্ষেত্রে রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা বা উপজেলা নির্বাচন অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রস্তুত করবেন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

 

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, বিএনসিসির ক্যাডেটদের ব্যয় চাহিদা প্রাপ্তি সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট থেকে সংস্থান করা হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিএনসিসির ক্যাডেট মোতায়েন এবং মোতায়েনের আগে প্রশিক্ষণ প্রদানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির পক্ষ থেকে আপত্তির কারণে ইসি তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছ ।বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তরুণ ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এতে ছাত্র ও প্রতিষ্ঠান—উভয়ই বিতর্কিত হতে পারে। বিএনপির এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ইসি তাদের আগের অবস্থানে পরিবর্তন আনল।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031