চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বড় ভাই জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ১০ দিন পর তিনি মারা গেলেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার অরোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মফিজুর রহমান জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ছিলেন।
আজ বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে নিহতের জানাজা শেষে চুয়াডাঙ্গার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ। জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মাওলানা আবদুল হালিম, মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘জামায়াতকর্মী ২ ভাইকে হত্যা বিএনপির জন্য কলঙ্কের তিলক। ’অপরাধীদের দ্রুত আইন ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। বলেন, ‘আসামি গ্রেপ্তার ও মামলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবে কাম্য নয়। এ ঘটনায় বিচার না হলে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য দায়িত্ব বিএনপিকেই নিতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আইন হাতে তুলে নিতে চান না তারা। তবে এতে জামায়াতকে দুর্বল মনে করলে বড় ভুল করবে বিএনপি। অপরাধের সাজা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা যাবে বিএনপি এর সাথে আছে। এ ঘটনায় যেন শেষ হয়, না হলে দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বর্তাবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান এবং তার ভাই জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেয়ার পথে হাফিজুর রহমান মারা যান। টানা ১০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে মারা যান মফিজুর রহমান।











