দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, বেডফোর্ডের কাছে নিজের স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যার অভিযোগে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত সোমবার গ্রেট ডেনহামের পারিবারিক বাসা থেকে ৪২ বছর বয়সী নোথাবো জানদিলে চশুমা, ১৫ বছর বয়সী ন্যাটালি এবং পাঁচ বছর বয়সী নালার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, জিম্বাবুয়ের নাগরিক এনডোডানা মাখানইসি চশুমা ঘটনার দুই দিন আগে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে হিথ্রো বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেছিলেন।
শুক্রবার ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে জোহানেসবার্গের কেনসিংটনে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ অনুমোদন করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের মুখপাত্র আথলেন্দা মাথে সাংবাদিকদের বলেন, এই গ্রেপ্তার একটি “কঠোর বার্তা” বহন করছে যে, দেশটি কোনো অপরাধ-সন্দেহভাজনের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়।
তিনি বলেন, “আমরা আপনাকে খুঁজে বের করব, আপনাকে শনাক্ত করব এবং গ্রেপ্তার করব।”
মাথে আরও জানান, অভিযুক্তকে সোমবার আদালতে হাজির করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর লি মার্টিন বলেন, “এটি ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতির একটি তদন্ত। এতে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি, ইন্টারপোল এবং জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ একাধিক সংস্থা অংশ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সংশ্লিষ্ট সবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলে আমরা দ্রুত এনডোডানা মাখানইসি চশুমাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”
সিপিএসের প্রধান ক্রাউন প্রসিকিউটর এমা ডেভিস বলেন, বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের দেওয়া প্রমাণাদি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনার পর এসব অভিযোগ অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “জানদিলে, ন্যাটালি ও নালার স্বজনদের প্রতি এবং এই ঘটনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।”
প্রতিবেশীরা কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের দেখতে না পাওয়ায় সোমবার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরিবারের একজন সদস্য বলেন, “অকল্পনীয় এই শোকের সময়ে যারা আমাদের জন্য প্রার্থনা করেছেন, সমবেদনা জানিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আপনাদের সহানুভূতি ও সমর্থন আমাদের পরিবারকে শক্তি জুগিয়েছে।”
এদিকে, পিলগ্রিমস প্রি-প্রেপ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জো ওয়েবস্টার ছোট্ট নালাকে “আলোর ঝলক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, বেডফোর্ড গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেমা গিবসন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ন্যাটালিকে “মেধাবী ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী” হিসেবে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, ন্যাটালি ছিলেন একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী, সংগীতশিল্পী এবং ক্রীড়াবিদ।
সুত্র বিবিসি











