স্বাস্থ্যসেবা খাতে সাফল্যের দাবি তুলে ধরে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ওয়েস স্ট্রিটিং। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, স্টারমারের মধ্যে “সাহস ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ গুণ” থাকলেও “যেখানে দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেখানে রয়েছে শূন্যতা”।
পদত্যাগপত্রে ওয়েস স্ট্রিটিং দাবি করেন, তাঁর দায়িত্বকালে এনএইচএসের অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এটি কোভিড-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্স সেবার সাড়া দেওয়ার সময়, জরুরি বিভাগের চার ঘণ্টার অপেক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্যখাতে জনবল নিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই সরকার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে নয় বছর পর প্রথমবারের মতো বাজেট ভারসাম্য অর্জন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এসব সাফল্যের পরও কেন তিনি পদত্যাগ করছেন, তার ব্যাখ্যায় স্ট্রিটিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তাঁর আস্থা নষ্ট হয়েছে। তাই দায়িত্বে বহাল থাকা তাঁর কাছে “অসৎ ও নীতিবিরোধী” মনে হয়েছে।
চিঠিতে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অংশে জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে এবং নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের উত্থান দেশটির মূল্যবোধের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্ট্রিটিং অভিযোগ করেন, সরকারের কিছু নীতি—যেমন শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কমানো এবং বিতর্কিত “আইল্যান্ড অব স্ট্রেঞ্জার্স” বক্তব্য—জনগণের কাছে সরকারের আদর্শ ও অবস্থানকে অস্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের প্রশংসা করেও তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন স্ট্রিটিং। তিনি লেখেন, “যেখানে আমাদের প্রয়োজন সুস্পষ্ট ভিশন, সেখানে রয়েছে শূন্যতা। যেখানে প্রয়োজন দিকনির্দেশনা, সেখানে রয়েছে ভাসমানতা।”
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, লেবার পার্টি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন ধারণা নিয়ে বিস্তৃত বিতর্ক প্রয়োজন।
চিঠির শেষাংশে ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল তাঁর জীবনের “সবচেয়ে আনন্দের অভিজ্ঞতা” এবং এইভাবে সরকার ছাড়তে হওয়ায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত।
সুত্র:বিবিসি











