ভারত ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে বিরল এক পরজীবী সংক্রমণে আক্রান্ত হন যুক্তরাজ্যের এক নারী। দীর্ঘদিন তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো উপসর্গে ভোগার পর চিকিৎসকেরা তার মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবীর উপস্থিতি শনাক্ত করেন। ঘটনাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা যায়, ওই নারী নিউরোসিস্টিসারকোসিস নামের একটি রোগে আক্রান্ত হন। এটি সাধারণত শূকরের ফিতাকৃমি (Taenia solium)-এর ডিম দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করলে হয়ে থাকে। ডিমগুলো রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি করে। এর ফলে খিঁচুনি, তীব্র মাথাব্যথা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, দৃষ্টিসমস্যা এবং অন্যান্য স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, রোগী প্রথমে সাধারণ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেলেও এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী শনাক্ত হয়। এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরজীবীনাশক ওষুধ, স্টেরয়েড এবং খিঁচুনি প্রতিরোধী ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়।
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ফলে তার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ জীবনযাপন করছেন এবং বিরল এই রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পক্ষে কথা বলছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউরোসিস্টিসারকোসিস এমন একটি সংক্রমণ যা মূলত অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, দূষিত খাদ্য ও পানির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বিদেশ ভ্রমণসহ যেকোনো সময় নিরাপদ খাবার গ্রহণ, বিশুদ্ধ পানি পান এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
তবে চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এ ধরনের সংক্রমণ শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়; বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এটি ঘটতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট দেশকে দায়ী না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়











