রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম উঠে এসেছে। মামলার আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, এ হামলার নেপথ্যে ছিলেন বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল আলম মনা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদ।
গত মাসে সংঘটিত এ বর্বরোচিত হামলার পরপরই র্যাব অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মালয়েশিয়া থেকে ফোনে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার মূল রহস্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বনানী থানার এক কর্মকর্তা জানান, “গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা রিমান্ডে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, হামলার মূল নীলক নকশা তৈরি করেন বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল আলম মনা। আর এর নেপথ্যে মূল নির্দেশ দাতা ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদ। তবে এবিষয়ে অফিসিয়ালি কিছু বলা নিষেধ আছে।”
সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা মাহমুদুল আলম মনা মাত্র ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে চিকিৎসক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল আলম মনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাকে এবং আমাদের দলকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। এ ঘটনার সাথে আমার কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।”
এদিকে, হামলার শিকার ডা. আহমদ হোসেনের পরিবার ও তাঁর সহকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত সকল মূল পরিকল্পনাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।











