ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে এবার নতুন শর্ত দিয়েছে। তেহরান দাবি করছে, এই সংঘাতে তারা এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং সেই অবস্থান থেকেই তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ দেখছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে। একই সঙ্গে এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনাও করেছে দেশটি।
শর্তটি পূরণ হলে বছরে কয়েক শ কোটি ডলার আয় করতে পারবে ইরান, যা তাদের চলমান অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, ইরান বুঝে গেছে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করা কত সহজ, এবং এখন তারা সেই প্রভাবকে ব্যবহার করতে চাইছে আয়ের নতুন উৎস হিসেবে।
তবে ইরানের এই দাবি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই এই সরু নৌপথকে ইরান তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ইরানের দাবিকে আরও জোরালো করেছে এবং সেই সুযোগেই নিজেদের শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে তেহরান।











