ডেস্ক রিপোর্ট:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আড়ত দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং গোলাগুলি হয়েছে। এতে ছাত্রদলের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি জিপ ও ১০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসংলগ্ন সাওঘাট এলাকার ‘বিসমিল্লাহ আড়ত’ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত সেলিম প্রধান ওরফে ডন সেলিমের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। আওয়ামী লীগ আমলে মজিবুর সহায়তা পেতেন সাবেক এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত দুই মাস ধরে মজিবুর চলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপুর পৃষ্ঠপোষকতায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আড়তের নিয়ন্ত্রণ নেন সেলিম প্রধান।
মঙ্গলবার দুপুরে দীপু ভূঁইয়ার অনুসারী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আড়তের দখল নিতে যায়। এ সময় আড়তের পাশে সেলিম প্রধানের বাড়িতে তাঁর পক্ষে অবস্থান নেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মাসুদুর রহমান ও তাঁর অনুসারীরা। দীপু ভূঁইয়ার লোকজন বাড়িতে হামলার এক পর্যায়ে সেলিম প্রধানের জিপ গাড়ি ও ছাত্রদল কর্মীদের ১০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ সময় ছাত্রদল কর্মী রাফি আহমেদ স্বপন ও রাজু ভূঁইয়া গুলিবিদ্ধ হন।
পরে সংগঠিত হয়ে ছাত্রদল কর্মীরা পাল্টা হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলি হয়। এ সময় ডন সেলিমের কয়েকজনকে পিস্তল হাতে গুলি করতে দেখা গেছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ রাফি ও স্বপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
দফায় দফায় সংঘর্ষে গাউছিয়া মার্কেট, তাঁতবাজার, হাজী শপিং কমপ্লেক্সসহ আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ ছিল মহাসড়কের যান চলাচলও। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান বলেন, ‘সেলিম প্রধানের মালিকানাধীন জমি ১০ বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিই আমি। পরে সেখানে বালু ভরাট ও শেড নির্মাণ করে কাঁচাবাজারের আড়ত দিই। কিন্তু পেশিশক্তি খাটিয়ে আড়ত দখলের চেষ্টা করছেন সেলিম প্রধান। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সেলিম প্রধানের অনুসারীরা আমাকে সহায়তা করা লোকজনের ওপর হামলা চালায়।’
সেলিম প্রধান বলেন, ‘গোলাম দস্তগীর গাজী তাঁর ভূমিদস্যুতার বাধা দূর করতে আমাকে ক্যাসিনোকাণ্ডে জেলে পাঠান। এ সময় মজিবুর রহমান ভুয়া চুক্তিনামা করে গোলাম দস্তগীর গাজীর সহায়তায় আমার জমি দখল করে আড়ত দেন।
বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ জানিয়েও পেরে ওঠেননি। তবে ৫ আগস্টের পর মজিবুর তাঁর দলবল নিয়ে পালিয়ে যান। হঠাৎ এক মাস আগে তারা বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভূঁইয়ার সহায়তায় ফিরে এসে আড়ত দখলের চেষ্টা করেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের মাধ্যমে মধ্যস্থতায় আড়তের দোকান ভাড়া আপাতত কোনো পক্ষ তুলবে না বলে সমঝোতা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার তারা আড়ত ও আমার বাড়ি দখলের চেষ্টা করে। স্থানীয় ছাত্রদল কর্মীরা আমার বাড়ি রক্ষায় এগিয়ে এলে, তাদের ওপর গুলি করা হয়। দীপু ভূঁইয়া মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে গাজীর লোকজনকে সহায়তা করছেন।’
অভিযোগের ব্যাপারে দীপু ভূঁইয়ার মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁর অনুসারী রফিকুল বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা শান্তি মিছিল বের করলে অতর্কিত হামলা-গুলি করা হয়। এতে আমার দুই কর্মী আহত হয়েছেন।’
নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী ইসলাম জানান, সেলিম প্রধানের সঙ্গে মুজিবুর রহমানের বিসমিল্লাহ আড়ত নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলার জেরে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটায় অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও সাইফুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আড়তের মালিকানা নির্ধারণে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
•











