শিবির নেতাকে হত্যার ঘটনায় যুবদল নেতার বাড়িতে এলাকাবাসীর আগুন, আটক ১

ডেস্ক রিপোর্ট

গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল কর্মী আশরাফ নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

আজ রাত ২টায় অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) পবিত্র কুমার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের অভিযুক্ত যুবদল নেতা মুকুল ও তার ভাই পলাশের বাড়িতে রাত ৮টার দিকে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয় সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস।

 

অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা ওই গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক। এছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক আশরাফ খন্দকার (৩৬) একই গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে ও স্থানীয় যুবদল কর্মী।

সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, ২২ সদস্যের একটি টিম আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হই।

 

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ নামের এক যুবদল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

এদিকে, খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির। রাত ১০টার দিকে বিভিন্ন স্লোগানে গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের ট্রাফিক মোড়ে এসে সমবেত হন। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীরাও সেখানে অংশ নেন। এছাড়া ২২ জুন সোমবার সকাল ১১টায় গাইবান্ধা ট্রাফিক মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির গাইবান্ধা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

 

অপরদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় সংসদে অধিবেশন পরবর্তী সময়ে সংসদ চত্বরেই এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ। সেখানে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এ সময় গাইবান্ধার জামায়াত সমর্থিত অন্যান্য এমপিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়া একই ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি শোকবার্তা দিয়েছেন গাইবান্ধা-২ সদর আসনের এমপি আব্দুল করিম। অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনায় অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপির সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

যুবদল কর্মী বহিষ্কার 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাতেই গাইবান্ধা জেলা যুবদলের সভাপতি রাকিব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এর আগে রোববার বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের (উপজেলার দক্ষিণ গেটে) চারমাথা মোড়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মুকুলের সঙ্গে সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মুকুল তার ভাই পলাশ, আশরাফ ও রবিউলকে সাথে নিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে সাইফুল্লাহর গলা ও ঘাড়ে আঘাত করে। এতে সাইফুল্লাহ বারীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

 

এসময় সাইফুল্লাহ বারীকে রক্ষা করতে সালাউদ্দিন এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন মুকুল ও তার সঙ্গীরা।

 

স্থানীয়রা গুরুতর আহত সাইফুল্লাহকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহত সাইফুল্লাহ বারী সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি এবং শিমুলতাইড় গ্রামের জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাবিবুর রহমানের ছেলে। আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031