স্পেনের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই আগুনকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানল হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্য ও জরুরি পরিস্থিতিবিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সান্স বলেন, এটি অঞ্চলটির ইতিহাসে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তিনি জানান, নিহতদের অধিকাংশ, এমনকি সবাই বিদেশি নাগরিক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে চারজন একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তোনিও সান্স জানান, গাড়িটিতে ডান পাশে স্টিয়ারিং হুইল ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে নিহত ব্যক্তিরা ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারেন।
এদিকে, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্পেনের সিভিল গার্ড। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, একটি বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিঁড়ে পড়ার কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এন্ডেসা এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে।
চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এর ফলে একের পর এক বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দাবানলের ভয়াবহতা নিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আগুন যখন তাদের এলাকার দিকে এগিয়ে আসছিল, তখন দৃশ্যটি ছিল “অবাস্তব” এবং আতঙ্কজনক। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, ফলে অনেক মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত দমকলকর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং জরুরি সেবাকর্মী দিনরাত কাজ করছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে চলছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানলের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
যদিও কর্তৃপক্ষ এখনও হতাহতের সংখ্যা ও নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এই দাবানল ইতোমধ্যেই স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সুত্র : রয়টার্স











