১৪ ভারতীয় মহিষ বৈধ দেখাতে ভুয়া রশিদ: ৫টি উদ্ধার করেছে বিজিবি

তিমির বনিক;মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

ভারতীয় ১৪টি মহিষকে বৈধ দেখাতে তৈরি করা হয়েছিল রশিদ। দাবি করা হয়েছিল, সব কটিই কেনা হয়েছে স্থানীয় হাট থেকে। প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল দুটি রশিদও। কিন্তু বিজিবির ছয় দিনের যাচাই-বাছাইয়ে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। কথিত বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কোনো মহিষ বিক্রি করেননি, এমনকি রশিদে তাঁর যে স্বাক্ষর রয়েছে, সেটিও তাঁর নয়। এরপর শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করেছে বিজিবি ও পুলিশ। তবে এর আগেই বাকি নয়টি মহিষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

 

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার গৌরনগর এলাকায় গত ১৪ আগস্ট রাতে বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় মহিষের একটি চালান আনা হয়। পরে মহিষগুলো লুৎফুর রহমানের বাড়ির একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি বিষয়টি জানতে পেরে মহিষগুলো উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। পরদিন ১৫ আগস্ট বিজিবি ও পুলিশ লুৎফুর রহমানের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় লুৎফুর মহিষগুলোর মালিকানা দাবি করে দুটি রশিদ দেখান। প্রাথমিক যাচাইয়ে বিজিবি’র কাছে রশিদগুলো সন্দেহজনক মনে হয়। তবে লুৎফুর রহমান ও তার ভাই হিফজুর রহমান মহিষগুলো উদ্ধারে বাধা দেন। লুৎফুরের দেওয়া কাগজপত্রের অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সময় প্রয়োজন হওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি রফিকুল ইসলামের জিম্মায় ১৪টি মহিষ রাখা হয়। তিনি লুৎফুর রহমানের বাড়িতেই মহিষগুলোর দেখাশোনা করছিলেন। এরপর টানা ছয় দিন বিজিবি হাটবাজার, ইজারাদার ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে। লুৎফুরের দাবি অনুযায়ী চান্দগ্রাম বাজার থেকে মহিষ কেনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তার দেওয়া রশিদে উল্লেখ করা বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি কোনো মহিষ বিক্রি করেননি এবং ওই রশিদে তাঁর কোনো স্বাক্ষর নেই। তাঁর স্বাক্ষর জাল করে রশিদ তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। বিজিবির অধিকতর যাচাই ও গোয়েন্দা তৎপরতায় লুৎফুর রহমান ও হিফজুর রহমানের মালিকানা দাবির কাগজপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে আবারও যৌথ অভিযান চালানো হয়। বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মেজর মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা লুৎফুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালান। তবে সেখানে কোনো মহিষ পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় পাঁচটি মহিষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, খাবারের জন্য মহিষগুলোকে পাশের ডোবায় চরানো হতো। অভিযান শুরুর আগেই জিম্মায় থাকা ১৪টি মহিষের মধ্যে নয়টি সরিয়ে নিয়ে লুৎফুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান।সংবাদ প্রতিবেদন

 

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট গৌরনগরের লুৎফুর রহমানের বাড়িতে ভারতীয় মহিষ উদ্ধারে বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। তখন ১৪টি মহিষ পাওয়া গেলেও লুৎফুর রহমান কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে সেগুলোর মালিকানা দাবি করেন এবং মহিষ উদ্ধারে বাঁধা দেন। কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির জিম্মায় মহিষগুলো রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, রশিদ ও কথিত বিক্রেতার তথ্য যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার আবার অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি নয়টি মহিষ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় চোরাচালান আইনে মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শুধু মহিষ নয়, সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031