দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গার নিকটে ৭.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পরপরই উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার (১৪৮ মাইল) গভীরে। সাধারণত কম গভীরতার ভূমিকম্প বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হয়; সে তুলনায় অধিক গভীরতার কারণে এটির প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সমুদ্রের গভীরে, যা টোঙ্গার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নিয়াফু থেকে প্রায় ১৫৩ কিলোমিটার (৯৫ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
টোঙ্গার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অফিস নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থান বা দেশের অভ্যন্তরের দিকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্র সৈকত, উপকূলীয় এলাকা এবং নিচু অঞ্চল এড়িয়ে চলা উচিত।
ইউএসজিএস এ অঞ্চলের জন্য কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করেনি। একইভাবে, হাওয়াইভিত্তিক প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টারও এক বুলেটিনে জানিয়েছে, সুনামির আশঙ্কা নেই।
১৭১টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত টোঙ্গায় এক লাখের কিছু বেশি মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই প্রধান দ্বীপ টোঙ্গাটাপুতে বাস করেন। মঙ্গলবারের ভূমিকম্পটি ভাভাউ দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে বেশি অনুভূত হয়েছে।
টোঙ্গাটাপুর রাজধানী নুকুয়ালোফার একটি সমুদ্রতীরবর্তী হোটেলের এক কর্মী জানান, “পুরো ভবনটি কেঁপে উঠেছিল, তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।”
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত টোঙ্গা একটি সক্রিয় ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল, যেখানে বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতজনিত সুনামিতে দেশটিতে তিনজন নিহত হয়েছিলেন।
নিউজিল্যান্ড থেকে টোঙ্গার অবস্থান প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার (১,১০০ মাইল) উত্তর-পূর্বে। নিউজিল্যান্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের অঞ্চলে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।











