যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মের পরামর্শ নিয়ে নিজের জন্মদাত্রী মাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ট্রিস্টান রবার্ট নামের এক কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত বছরের অক্টোবরে উত্তর ওয়েলসের বাড়িতে মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে স্লেজহ্যামার দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে সে। বুধবার মোল্ড ক্রাউন কোর্টের রায়ে বলা হয়, ১৮ বছর বয়সী রবার্টকে ন্যূনতম ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে রবার্ট ‘ডিপসিক’ নামের একটি এআই সার্চ ইঞ্জিনের সহায়তা নিয়েছিল। সে এআই-এর কাছে জানতে চেয়েছিল হত্যার জন্য হাতুড়ি না ছুরি—কোনটি বেশি কার্যকর। প্রথমে প্ল্যাটফর্মটি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেও নিজেকে অপরাধবিষয়ক লেখক পরিচয় দিলে হাতুড়ির সুবিধা-অসুবিধা এবং হত্যার পর রক্ত ও দাগ মুছে ফেলার পদ্ধতি পর্যন্ত জানিয়ে দেয়। আদালতে এসব তথ্য উপস্থাপিত হলে ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, রবার্ট তিন সপ্তাহ ধরে হত্যার প্রস্তুতি নেয় এবং পুরো সাড়ে চার ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ ডিক্টাফোনে রেকর্ড করে রাখে। অনলাইনে নারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ, মা–কে নিজের মানসিক সমস্যার জন্য দায়ী করা এবং পরিকল্পিতভাবে হামলার বর্ণনা—সব মিলিয়ে এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড। রেকর্ডে সংরক্ষিত অডিওর বিবরণ এতটাই ভয়াবহ যে আদালতে তা সরাসরি বাজানো হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার রাতে বাড়িতেই প্রথম হামলা চালায় রবার্ট। রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মাকে নির্যাতনের পর চিকিৎসার কথা বলে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর কাছের একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের নির্জন স্থানে ব্যাগ থেকে স্লেজহ্যামার বের করে মাথায় একের পর এক আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখে। পরদিন পথচারীরা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দিলে রবার্টকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে আরও জানানো হয়, অটিজম ও এডিএইচডিতে আক্রান্ত ছেলের জন্য সহায়তা খুঁজছিলেন শেলিস। হত্যার কয়েকদিন আগে তিনি সমাজকর্মী ও পরিচিতজনদের জানিয়েছিলেন, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে। নিজের ফোনে রেখে যাওয়া নোটে তিনি লিখেছিলেন—“কেন? এগুলো সে কেন কিনল? সে কি আমাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়?”
রায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট বলেন, তাদের মা ট্রিস্টানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন।











