পাবজি-সিওডি খেলতেও দিতে হবে কর

ষ্টাফ রিপোর্টার

দেশের বিশাল একটি অংশের অবসর বিনোদনের মাধ্যম এখন অনলাইন মোবাইল গেমস। অনেকেই এসব গেমস লাইভ স্ট্রিমিং করে আয়ও করছেন। তবে অনলাইনে জনপ্রিয় গেম খেলতে গেলেও এবার কর দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় পাবজি মোবাইল, কল অব ডিউটি (সিওডি), ইএ স্পোর্টস সকারসহ বিভিন্ন গেমসকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন গেমিং খাতকে কর ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে ডিজিটাল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা, অনলাইন লেনদেনে নজরদারি বাড়ানো এবং বিদেশি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থপাচার রোধের লক্ষ্যও রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৭০ শতাংশের বেশি পরিবার এখন অন্তত একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করে। শহর-গ্রাম মিলিয়ে ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এনবিআরের হিসেব বলছে, কিশোর-তরুণদের একটি বড় অংশ নিয়মিত মোবাইল গেমস খেলে এবং বর্তমানে দেশের অনলাইন গেমিং বাজারের আকার দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার তথ্যমতে, এ খাতের বড় অংশের আর্থিক লেনদেন এখনো কর ব্যবস্থার বাইরে।

বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মুনিরুল ইসলাম মনে করেন, অনলাইন গেমসকে করের আওতায় আনা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তার মতে, এটি দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে এবং আরও আগেই এ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে বেসিসের সাবেক সভাপতি ও প্রযুক্তিবিদ সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, অনলাইন কনটেন্টে কর আরোপ সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। এতে গ্রাহকরা ভিপিএন বা বিকল্প পথে গেম খেলতে পারেন, যা কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয়কে বাধাগ্রস্ত করবে। তার মতে, সরকারের উচিত প্যাসিভ রেভিনিউ উৎসে বেশি মনোযোগ দেওয়া।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, ইন-অ্যাপ পারচেজ, সাবস্ক্রিপশন ফি, ভার্চুয়াল গেমিং কারেন্সি ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক গেমিং প্ল্যাটফর্মে স্কিন, চরিত্র, ভার্চুয়াল কয়েন ও প্রিমিয়াম ফিচার কিনতে টাকা ব্যয় করছেন, যার বেশিরভাগ লেনদেনই করের বাইরে থেকে যায়। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব লেনদেন আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে এলে রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনি সীমান্তপারের ডিজিটাল পেমেন্টের ওপর নজরদারিও জোরদার হবে। তাদের ধারণা, অন্তত ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা গেলে বছরে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এখনো নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরাও সরকারের ওপর রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর চাপ দিচ্ছে। ফলে নীতিনির্ধারকরা ডিজিটাল অর্থনীতিকে নতুন রাজস্ব উৎস হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031