বিএনপির তিন বলয়ের পৃথক কর্মসূচি, আধিপত্য বিস্তারে সংঘাতের শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট :নবীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে বিএনপির কোন্দল ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল-পাল্টা মিছিল করছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এনিয়ে যে কোনো সময় সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সম্প্রতি একটি পক্ষ প্রতিবাদে শহরে একাধিক ঝাড়ুমিছিল করেছে। এ নিয়ে কোন্দল দিন দিন বেড়েই চলছে।

দৃশ্যত তিনটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমানের নেতৃত্বে রয়েছেন পাঁচজন। অপর দিকে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব আহমদ চৌধুরী, সাবেক ছাত্রদল নেতা হারুনুর রশিদ, নুরুল গনি চৌধুরী সোহেল ও সোহেল আহমদ চৌধুরী রিপন গং।

এর আগে পৌর বিএনপির একটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়ে কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সে নিয়ে বিভক্তি বাড়ে। বর্তমানে পৌর বিএনপির দুটি গ্রুপ আলাদা মিছিল-মিটিং ও কর্মসূচি করছে; যার একদিকে সাবেক সভাপতি ও সদ্য সব পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী ও বর্তমান আহ্বায়ক ছালিক মিয়া চৌধুরী রয়েছেন। অপর দিকে রয়েছেন বর্তমানের তিন যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী, নুরুল আমিন ও অরবিন্দ রায়। বুধবার নতুন আরেকটি বলয় এই বিভক্তির খেলায় যোগ দিয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার নেতৃত্বে এই অংশের নেতাকর্মীরা আলাদা কর্মসূচি পালন করছেন।

বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নবীগঞ্জে পৃথকভাবে তিনটি পক্ষের তিনটি বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও পথসভা আয়োজন হয়। এ দিয়ে পরিষ্কার হয়ে যায় বিএনপিতে বিভক্তির চিত্র। পৃথকভাবে নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির পক্ষগুলোর এমন কার্যক্রম ভালোভাবে নিচ্ছেন না তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

এ সময় তিন গ্রুপের মিছিল ও শোভাযাত্রা প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৃথক পৃথক স্থানে গিয়ে শেষ হয়। তিন পক্ষের উপস্থিতিতে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়।

বুধবার বিকেল ৪টায় প্রথম শোভাযাত্রা বের করেন দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র ছাবির আহমেদ চৌধুরী। পৌর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক ছালিক মিয়ার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো প্রাঙ্গণ থেকে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রা বের হয়।

এর কিছু সময় পর নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে এবং পৌর বিএনপির অপর যুগ্ম আহ্বায়কদের সমন্বয়ে নবীগঞ্জ সরকারি জে কে হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এই শোভাযাত্রার সামনে ছিল লাঠি খেলার দল। কয়েক হাজার নেতাকর্মী ওই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

এরপর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পিয়ারার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমানের পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক আহ্বায়ক সরফরাজ চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি বয়েত উল্লা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান অলি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিদ তালুকদার, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী, নুরুল আমিন প্রমুখ।

বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরের গোল্ডেন প্লাজায় দলীয় কার্যালয় থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা। তারা শহর প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার মোড়ে পথসভা করেন। বক্তব্য রাখেন, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব আহমদ চৌধুরী, ছাদিকুর রহমান শিশু, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, সাবেক ছাত্রদল নেতা হারুনুর রশিদ, নুরুল গনি চৌধুরী সোহেল, সোহেল আহমদ চৌধুরী রিপন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী রিপনসহ অন্যরা। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি পৃথকভাবে তিনটি পক্ষের শোভাযাত্রা বের করা নিয়ে নেতাকর্মীদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে।

নবীগঞ্জ কলেজের একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় গ্রুপিং-লবিং এবং পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন শুভলক্ষণ নয়। এতে এসব গ্রুপিং থেকে বড় ধরনের দাঙ্গা হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

দলীয় পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, দলের একজন কর্মী হিসেবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছি। তাঁর সঙ্গে পৌর বিএনপির আহ্বায়কসহ অনেক নেতাকর্মী আছেন। দল যদি তাঁর কর্মতৎপরতা দেখে স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করেন কোনো সমস্যা নেই।

সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব আহমদ চৌধুরী বলেন, আলাদা মিছিল মিটিং করার কারণ হচ্ছে, দলীয় অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীকে উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সে কারণে নির্বাচিত কমিটির সঙ্গে নেই তারা। নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা আছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আলাদা কর্মসূচি পালন করবেন বলেও জানান তিনি।

সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার নাগাল পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031