বান্দরবানে বিএনপি, ঝালকাঠীতে জামায়াত কার্যালয়ে আগুন

বান্দরবান শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজঘোনা এলাকায় বিএনপির একটি অস্থায়ী নির্বাচনি প্রচারণা ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শহরের হাফেজঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

বান্দরবান 

বিএনপি নেতাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে এ আগুন দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশেই এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে।স্থানীয় বিএনপির নেতারা জানান, রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা নির্বাচনি প্রচারণা ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ক্যাম্পের ব্যানার, ত্রিপল ও সামিয়ানা পুড়ে যায়।

নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনি পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে জানান,গভীর রাতে কে বা কারা বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনি প্রচারণা ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করছি। যে বা যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঝালকাঠি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার কবির হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছে। কিন্তু একটি বিশেষ দল পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের কর্মীদের হুমকি, বাধা, ভীতি প্রদর্শন ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে—যার কিছু ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, সাতুরিয়া ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের ছত্রছায়ায় নির্বাচন ভণ্ডুল করার লক্ষে সাধারণ ভোটার ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার গভীর রাতে দীর্ঘদিনের পুরোনো জামায়াত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এর আগে প্রকাশ্যে জামায়াতের কর্মীদের হুমকি দিয়ে সাতুরিয়া ইউনিয়নে জামায়াতের কোনো চিহ্ন থাকতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছিল। কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নেতারা।

ad
ঘটনার পর জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা শনাক্ত করা যায়নি। জামায়াত নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, জামায়াতের লোকেরাই নিজেরা আগুন দিয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল—এ ধরনের কাজে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।

আরও দেখুন
জাতীয় সংবাদ
প্রবাস সংবাদ
শিক্ষা সংবাদ
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031