খুলনার কয়রায় পিছিয়ে পড়া মুন্ডা ও মাহতো সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করে যাচ্ছে সুন্দরবন আদিম উন্নয়ন সংস্থা (সাউস)।
দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে মুন্ডা ও মাহতো সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে এ জনগোষ্ঠীর অনেক পরিবার এখনও দারিদ্র্য ও নানা বঞ্চনার মধ্যে জীবনযাপন করছে। এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সমাজের মূলধারায় এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সাউস।
সংস্থাটি ইতোমধ্যে আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা সংরক্ষণ, শিক্ষা বিস্তারে উৎসাহ প্রদান, জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দিবস পালনসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাটকাটা বাজারে সুন্দরবন আদিম উন্নয়ন সংস্থার (সাউস) আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এ কার্যালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন আদিম উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বলাই কৃষ্ণ মুন্ডা, পরিচালক বাবলু বিশ্বাস, কাটকাটা বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম, সংস্থার সিইও ও সাধারণ সম্পাদক প্রভাত মুন্ডা, আদিবাসী সদস্য রনজিত মাহতো, শিবানী মাহতো, বিভূতি ভূষণ মাহতো, অশ্বিনী মুন্ডাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সুন্দরবন আদিম উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বলাই কৃষ্ণ মুন্ডা বলেন, “আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটাতে সাউস বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। তবে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে অর্থায়ন প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি দাতা সংস্থাগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তিনি সংস্থার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেন।











